ভিডিও গেম আসক্তি

ভিডিও গেম আসক্তি, যা গেমিং ডিসঅর্ডার বা ইন্টারনেট গেমিং ডিসঅর্ডার নামেও পরিচিত, সাধারণত ভিডিও গেমের সাথে সরাসরি যুক্ত। গেম খেলার কারণে যদি কোনো ব্যক্তির দীর্ঘ সময় ধরে কর্মক্ষমতা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হয় এবং নেতিবাচক পরিণতি বিবেচনা না করেও তিনি গেমিংয়ে নিযুক্ত থাকেন, তখন বলা যায় তিনি গেমিং ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত। এই ডিসঅর্ডারে ব্যক্তি না চাইতেও গেম খেলার তাড়না অনুভব করেন এবং তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন।
লক্ষণ
- সব সময় বা বেশিরভাগ সময় গেমিংয়ের কথা ভাবা।
- খেলতে না পারলে খারাপ লাগা।
- ভালো লাগার জন্য ক্রমশ বেশি সময় খেলা।
- ছাড়তে বা কমাতে না পারা।
- পছন্দের অন্য কাজ করতে ইচ্ছা না হওয়া।
- গেমিংয়ের কারণে কর্মক্ষেত্র, স্কুল বা বাড়িতে সমস্যা হওয়া।
- সমস্যা সত্ত্বেও খেলে যাওয়া।
- খেলার সময়ের পরিমাণ কাছের মানুষদের কাছে লুকানো।
- রাগ, দুঃখ, ক্ষোভ থেকে মুক্তি পেতে ক্রমাগত খেলা।
- গেমের কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ঘুমে সমস্যা হওয়া।
অবশ্য প্রচুর গেম খেলা প্রত্যেকের এসব সমস্যা হয় না; বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু বেশি খেললেই তাকে গেমিং ডিসঅর্ডার বলা যৌক্তিক নয়। মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা এতে বেশি আক্রান্ত হন।
চিকিৎসা
গেমিং ডিসঅর্ডার একটি নতুন শ্রেণিবিন্যাস, তাই স্পষ্ট কোনো একক চিকিৎসা পরিকল্পনা এখনো নেই; তবে জুয়া আসক্তির মতো অন্যান্য আসক্তির চিকিৎসাও এতে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। গবেষণায় নিম্নলিখিত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়:
- সাইকোএডুকেশন: গেমিং আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যে এর প্রভাব সম্পর্কে ব্যক্তিকে শিক্ষিত করা।
- কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি: অভিলাষ নিয়ন্ত্রণ, অযৌক্তিক চিন্তা মোকাবিলা ও সমস্যা সমাধানের কৌশল শেখানো।
- ইন্ট্রাপার্সোনাল: নিজের পরিচয় অন্বেষণ, আত্মসম্মান গঠন ও সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা।
- আন্তঃব্যক্তিগত: অন্যের সাথে যোগাযোগ দক্ষতা ও দৃঢ়তা নিয়ে কাজ করা।
- পরিবারের হস্তক্ষেপ: সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে পরিবারের সদস্যদের থেরাপিতে যুক্ত করা।
- নতুন জীবনধারা গড়া: নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ ও গেমের বাইরে উপভোগ্য কাজ খুঁজে নেওয়া।
যেকোনো আসক্তিই মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। তাই বিনোদনের জন্য অল্প গেম খেললেও খেয়াল রাখতে হবে, আপনার জীবনের রিমোট যেন গেমের হাতে চলে না যায়।





